Basic Info BD https://www.basicinfobd.com/2021/12/blog-post.html

কিভাবে ব্লগের বাউন্স রেট এবং আপনার ট্রাফিক ম্যাক্সিমাইজ করবেন?





বাউন্স রেট কি?

সংক্ষেপে এটা একটি টার্ম যা একটা পার্সেন্টেজ পরিমান করে সেসব পাঠকদের নিয়ে যারা সাইটের কোথাও ক্লিক না করেই  চলে যান।

আপনার কন্টেন্টটি তাদের কাছে ভালো লেগেছে কিনা অথবা তারা তাদের আশানুরুপ তথ্য পেয়েছে কিনা তার নির্ধারক হিসেবে এটা কাজ করে। 

বাউন্স রেট এবং এক্সিট রেটের মধ্যে পার্থক্য 

বাউন্স রেট বলতে বুঝায়  আপনার পাঠক কন্টেন্টটি ভিজিট করলো কিনা । অন্যদিকে , এক্সিট রেট মানে বুঝায় আপনার পাঠক বিভিন্ন পেইজ ওপেন করার পর লিভ নিল কিনা। যাইহোক , আপনি কখনো আশা করতে পারবেন না আপনার পাঠক সারাজীবন আপনার কন্টেন্ট পড়বে। এটা শুধু নিশ্চয়তা দেয় আপনার পাঠকের ভালো লেগেছে নাকি লাগে নাই। 


বাউন্স রেট এবং এক্সিট রেটের মধ্যে পার্থক্য 

যদিও ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট এবং এবং এক্সিট রেট ভিন্ন কিন্তু তাদেরকে Google Analytics  ব্যবহার করে মনিটর করা যায়। যা একটি ফ্রি ওয়েব অ্যানালাইটিক সার্ভিস ।

উচ্চ বাউন্স রেটের প্রভাব

উচ্চ বাউন্স রেট হলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার ওয়েবসাইটের  ইম্প্রুভমেন্ট করতে হবে। SEO এক্সপার্টসদের মতে বাউন্স রেট সার্চ ইঞ্জিন র‍্যানকিং এ প্রভাব ফেলে। এটি তিনটি SEO  ফ্যাক্টর এর উপর প্রভাব ফেলে । যেমন-

১। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা

২। প্রত্যেক সেশনে পেজ সংখ্যা

৩। কত সময় ধরে সাইটে থাকছে

কিভাবে বাউন্স রেট কমাবেন?

একটা কথা মনে রাখবেন আপনি কখনোই বাউন্স রেট শুণ্যে নিয়ে আস্তে পারবেন না। 

আপনাকে বাউন্স রেট কমানোর জন্য বেঞ্চমার্ক্স খুজতে হবে। 

১। ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড উন্নত করুন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী , ৪০% ব্যবহারকারীর মতে ৩ সেকেন্ডের বেশি লোড হওয়ার জন্য সময় নিলে তখন বিরক্ত লাগে। মোবাইল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরো বেশি কষ্টে এর কারন ৫৩% ব্যবহারকারী সাইটে পৌছানোর আগেই লিভ নেয়। গুগলের মতে , মোবাইল ব্যবহারকারীদের মতে  যেসব সাইট লোড হতে ১ সেকেন্ড সময় লাগে তাদের সাথে যেসব সাইটের লোড হতে ৫ সেকেন্ড সময় লাগে তাদের মধ্যে ৯০%  ব্যবধান। খুশির খবর হলো , আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি উন্নত মানের করার জন্য প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপার ছাড়াও  Improve your website’s loading speed  ব্যবহার করতে পারেন।

২। আপনার কন্টেন্টটি ব্যবহারকারীর ইন্টেন্টের সাথে মিল রেখে তৈরি করুন

আপনার পাঠককে সন্তুষ্ট করতে তাদের চিন্তা ভাবনায় মনোযোগ দিন। Keyword research tool  এ একটি ফিল্টার ফিচার রয়েছে যা আপনাকে আপনার পছন্দমতো কন্টেন্ট তৈরি করতে সাহায্য করবে।

 ১। তথ্যভিত্তিক সার্চ

২।নেভিগেশনাল সার্চ

৩। ট্রানজেকশনাল সার্চ

৩। আকর্ষনীয় ফিচার ইমেইজ ব্যবহার করুন

আপনার কন্টেন্টটি আকর্ষনীয় করে তোলার জন্য একটি আকর্ষনীয় ফিয়াচ্র ইমেইজ ব্যবহার করুন। 


৪। একটি Table of Content তৈরি করুন 

পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য Table of content তৈরি করুন


৫। Exit-intent pop-ups ব্যবহার করুন

সাধারনত কন্টেন্ট এর মাঝে পপ -আপ আসলে পাঠকরা বিরক্ত হয় কিন্তু আপনি যদি পপ-আপটি ট্যাব ক্লোজ করার সময় নিয়ে আসেন তাহলে পাহকদের সমস্যা হবেনা। 

৬। CTAs এর সাথে স্মার্ট হন

আপনি যদি চান আপনার পাঠকরা লিভ না নিক আথলে ভালো হপ্য আপনি তাদের বলে দিন তাদের পড়া শেষ হলে কি করতে হবে।  কিছু অপশন রাখুন। যেমন – “Download Now “ অথবা  “ Get Started”


 

৭। সলিড ইন্টারনাল লিঙ্ক তৈরি করুন  

আপনার কন্টেন্টে অন্য লিঙ্ক যুক্ত করেও আপনি পাঠকদের আটকে রাখতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে লিঙ্ক ব্যবহার করার সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি যে লিঙ্কটি ব্যবহার করছেন সেটা আপনার কন্টেন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন কিনা। যদি না হয় সেক্ষেত্রে আপনার লিঙ্কটি সম্পুর্নভাবে বাদ দেয়া উচিৎ। 


৮। সাইডবারে নেভিগেশনাল উপাদান যুক্ত করুন

আপনার কন্টেন্টের ইন্টারনাল লিঙ্কই শুধু যুক্ত হয় না । আপনার কন্টেন্টের সাইডবার, ফুটার , মেইন নেভিগেশন মেন এবং ইমেইজে যেসব লিঙ্ক থাকে তাও ধরা হয়। 


৯। সাইট সার্চ ফিচার তৈরি করুন 

ক্যাটেগরাইজড নেভিগেশন লিঙ্ক অনেক হেল্পফুল কিন্তু সার্চ বারের মত পাঠকদের সাহায্য করেনা।  কারন সার্চ বার পাঠকের মন মত টপিক খুব সহজে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। 


১০। আপনার ডিজাইনে একটি হিট ম্যাপ তৈরি করুন যা হট স্পট এবং কোল্ড জোন হিসেবে ব্যবহৃত  হবে

আপনার কন্টেন্টের কোন অংশটুকু বেশি ইন্টারেস্টিং এবং কোন অংশটি কম সেটি বুঝাতে হিট ম্যাপ ব্যবহার করুন।


১১। ডিরেক্ট কন্টেন্ট থেকেই যেন মানুষ শেয়ার করার অপশন পায়

মাঝে মাঝে পাঠকের আপনার কন্টেন্টটি পছন্দের হলে তারা চায় কন্টেন্টটি শেয়ার করতে। 


১২। রিড্যাবিলিটি উন্নত করুন 

আপনি যদি চান আপনার পাঠক কন্টেন্টি পড়ে বোরড না হোক তাহলে আপনি শুধু মেসেজ এর দিকে খেয়াল না করে স্পেসিং এবং ফন্ট সাইজ এর দিকেও মাঝে মাঝে লক্ষ্য করুন। মেসেজগুলো যেন বেশি বড় না হয়ে ছোত মেসেজের মধ্যে পুরোপুরো জিনিস্টা বুঝানো যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। 


১৩। বিভিন্ন পেইজ ট্র্যাক করার জন্য গুগল অ্যানালাইটিকস ব্যবহার করুন

আপনি গুগল অ্যানালাইটিকস দিয়ে প্রতিটি পেজের পারফরম্যান্স দেখতে পারবেন।


১৪। মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেস এর দিকে লক্ষ্য করুন

যখন থেকে মোবাইলে অনলাইন ট্রাফিক বেড়েছে তখন থেকে স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটে ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজেশনের জন্য কোনো অপশন রাখা হয়নি। 


১৫। মনোযোগ ধরে রাখুন

ব্লগ পোস্ট লেখার সময় লিঙ্ক যুক্ত করা, এক্সটারনাল সোর্চ ব্যবহার করলে পাঠকদের ব্লগটি পড়তে সুবিধা হবে। 

১৬। আপনার 404 পেইজটি কাস্টমাইজ করুন

আপনার পাঠক ক্লিক করে আপনার কন্টেন্ট না পড়ার আরেকটি কারোন হলো ব্রোকেন লিঙ্ক। একজন ব্যবহারকারীর জন্য “404”, “Not Found “  পেইজটি অনেকটা পেইজ শেষ হয়ে যাওয়ার মত। 


১৭। বিশ্বাসযোগ্য উপাদানগুলো এক্সাথ করুন

অনেকবেশি মুল্যবান তহ্য দিয়ে পাওনার কন্টেন্টটি তৈরি হলেও অনেক সময় পাঠক্রা আপনার সাইটটি ভরসা করতে পারেন না বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট না হওয়ার কারনে। 


১৮। আপনার কন্টেন্টটি দৃষ্টিনন্দন করুন বিভিন্ন ভিজুয়াল দিয়ে

আপনার কন্টেন্টটি যদি কোনো টপিকের বিস্তারিত হয় তাহলে তার সাথে ছবি অথবা ভিডিও যুক্ত করুন। 


১৯। সঠিক মেটা ডেস্ক্রিপশন লিখুন

আপনার কন্টেন্টের টাইটেলে সংক্ষিপ্ত আকারে আপনার টপিকটির বর্ননা দিন।


আশা করি আপনাদের কন্টেন্টটি ভালো লেগেছে। আপয়ান্র এই গাইডলাইনটি অনুসরন করে আপনাদের ব্লগের বাউন্স রেট কমাতে পারবেন। আপনাদের যদি কারো কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।  

এই কন্টেন্টের সব ছবি এই লিঙ্ক থেকে নেওয়া হয়েছে। 


 


 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন