Basic Info BD https://www.basicinfobd.com/2021/12/blog-post_3.html

ইউনিলিভার কোম্পানির ইতিহাস এবং এই কোম্পানি আসলে কত বড়?

 




ধরুন সকালে ঘুম থেকে উঠলেন। এরপর ব্রাশ করলেন, তারপর নাস্তা বানালেন। এরপর গোসল করলেন, নাস্তা খেলেন। তারপর ঘরের টুকিটাকি কাজ করে দুপুরের খাবার রেডি করলেন। আপনি কি জানেন এর সবগুলো কাজ ই ইউনিলিভারের প্রোডাক্ট ব্যবহার করেই করে ফেলা সম্ভব? শুধু তাই ই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইউনিলিভারের এরকম অসংখ্য পণ্য ব্যবহার করতে হয়। তো ইউনিলিভার আসলে কত বড়? এর বিস্তার কতটুকু? 

ইউনিলিভার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির একটি। বর্তমানে ইউনিলিভারের প্রায় ৪০০টি ব্র্যান্ডের কয়েক হাজার পণ্য বাজারে রয়েছে। সারাবিশ্বে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মানুষ ইউনিলিভারের পণ্য ব্যবহার করে থাকেন। কেবল বাংলাদেশেই ৯০% মানুষ ইউনিলিভারের কোন না কোন পণ্য ব্যবহার করে থাকেন। 

ইউনিলিভারের ইতিহাস

১৮৮০ সালে উইলিয়াম লিভার নামের একজন সেলসম্যান সাবান উৎপাদনের কথা  চিন্তা করেন। ১৮৮৪ সালে তিনি সানলাইট সোপ নামে এক সাবান বাজারে আনেন। সাবানটি মার্কেটে বেশ সাড়া ফেলে। ১৮৮০ এর দশকের শেষের দিকে উইলিয়াম লিভারের ভাই জেমস লিভার তার সাথে যোগ দিয়ে লিভার ব্রাদার্স নামে আলাদা একটি কোম্পানি খুলেন। এই কোম্পানির মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ধরনের সাবান বাজারে আনেন। লিভার ব্রাদার্সের সাবান যুক্তরাজ্যের বাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় ১৯০০ সালের শুরুতেই। ১৯১০ সালে যুক্তরাজ্যে বিক্রিত সাবানের এক-চতুর্থাংশই ছিল লিভার ব্রাদার্সের। এরপর তারা ইউরোপের অন্যদেশগুলোতেও সাবান রপ্তানি শুরু করে দেয়। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে বাটার আর মার্জারিনের অনেক ঘাটতি দেখা দেয়। মার্জারিন উৎপাদনে করতে যেসব উপাদান লাগে সাবান তৈরীতেও একই উপাদান লাগে। আর সেসময় যুক্তরাজ্যে লিভার ব্রাদার্সের বেশ কয়েক বছরের সাবান তৈরীর অভিজ্ঞতা থাকায় যুক্তরাজ্যে লিভার ব্রাদার্সকে দেওয়া হয় মার্জারিন উৎপাদনের দায়িত্ব। এর ফলে লিভার ব্রাদার্স তাদের ব্যবসার পরিসর বড় করার সুযোগ পায়। ১৯১৭ সালে পিয়ার’স নামের একটি সাবান কোম্পানি এবং ১৯২২ সালে ওয়েলস নামের এক সসেজ কোম্পানি তারা কিনে নেয়। ১৯২২ সালেই তারা আইসক্রিম বানানো শুরু করে দেয়। এদিকে নেদারল্যান্ডের JURGEN এবং VAN DEN BERGH কোম্পানি বাটার ও মার্জারিন উৎপাদন করত। ১৯০৮ সালের দিকে বাটার এবং মার্জারিনের রিসোর্স কমতে থাকে, আবার প্রতিযোগিতাও বাড়তে থাকে। এজন্য কোম্পানি দুইটি তাদের রিসোর্স এবং প্রফিট শেয়ারের একটি চুক্তিতে আসে। ১৯২৭ সালের মধ্যে আরো বেশ কিছু কোম্পানি তাদের সাথে যোগ দেয়। তারা একটি বড় কোম্পানি গড়ে তুলে। এই কোম্পানির ইংল্যান্ডের শাখাটির নাম ছিল MARGERINE UNION LIMITED আর নেদারল্যান্ডের অংশটির নাম ছিল MARGERINE UNI L.V. । তারা পরবর্তীতে সাবান উৎপাদনও শুরু করে। ১৯২৯ সালে MARGERINE UNI এবং LEVER BROTHERS এই দুই কোম্পানি একীভূত হয়ে UNILEVER নাম ধারণ করে। এদের একটি শাখা  UNILEVER PLC নামে ইংল্যান্ডে এবং আরেকটি শাখা UNILEVER N.V. নামে নেদারল্যান্ডে আছে। তবে এরা দুইটি আলাদা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাদের স্টক শেয়ারও ভিন্ন। 

ইউনিলিভারের কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড 

ইউনিলিভারের কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হল- লাক্স, ডাভ, সানসিল্ক, রেক্সোনা, সার্ফ এক্সসেল, নর ইত্যাদি। সকল ব্র্যান্ডের বার্ষিক বিক্রি ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশে ইউনিলিভারের বিস্তার নিয়ে বলতে গেলে শুরুতেই আসে লাক্সের নাম। লাক্স বাংলাদেশের সাবানের বাজারের ৫০% দখল করে রেখেছে। এছাড়া ইউনিলিভারের সকল পণ্য বাংলাদেশের ৬০.৭৫% বাজার দখল করে আছে। ২০১৯ সালে ইউলিভারের আয় ছিল ৫৮.২ বিলিয়ন ডলার।

এত ব্র্যান্ডের ভীড়ে কেন ইউনিলিভার বেশি জনপ্রিয়?

১। ইউনিলিভার নিজেই নিজের প্রতিযোগী।ইউনিলিভার একই ধরনের পণ্যের বিভিন্ন ব্র্যান্ড বাজারে নিয়ে এসেছে যাতে অন্য কোন ব্র্যান্ড সেই পণ্যের মার্কেটটি ধরতে না পারে। যেমন শ্যাম্পুর ক্ষেত্রে সানসিল্কের বিকল্প হিসেবে আছে ক্লিয়ার, ডাভ ইত্যাদি, সাবানের ক্ষেত্রে লাক্সের বিকল্প হিসেবে লাইফবয়, পিয়ার্স ইত্যাদি। 

২। সব ধরনের প্রোডাক্ট রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টি দেশে ইউনিলিভার তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করছে। 

৩। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যেসব পণ্য ব্যবহার করি তার শতকরা ৪৯ ভাগ ই ইউনিলিভার প্রস্তুত করে থাকে। তাই তাদের চাহিদা কখনো কমেনা। ফলে তাদের বিক্রিও হয় বেশি, লাভও হয় বেশি। 

৪। ইউনিভার সব শ্রেণীর মানুষের কথা চিন্তা করে পণ্য বানায়। যেমন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের ভিতরেই থাকে লাক্সের দাম। যারা একটু বিলাসী সাবান ব্যবহার করতে চায় তাদের জন্য উচ্চমূল্যের সাবান ডাভ, পিয়ার্স ইত্যাদি রয়েছে। আবার শ্যাম্পুর ক্ষেত্রেই দেখুন, বড় বোতলের সাথে সাথে মিনিপ্যাকেও বিক্রি করা হয় যাতে সব শ্রেণী পেশার মানুষের ই ক্রয় ক্ষমতার ভিতরে থাকে। এভাবে ইউনিভার সকল শ্রেণীর আয়ের মানুষকেই টার্গেট করে। 

৫। ইউনিলিভারের সাপ্লাই চেইন বেশ শক্তিশালী। কাঁচামাল যোগান থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যন্ত লক্ষাধিক কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। ফ্যাকটরীতে প্রায় ১ লক্ষাধিক এবং প্রোডাক্ট সাপ্লাই এ সত্তর হাজারের অধিক এমপ্লয়ী রয়েছে। 


ইউনিলিভার প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনতে থাকে। আপনি কি মনে করেন ইউনিলিভারের পণ্য ব্যবহার ছাড়াই আপনার প্রাত্যহিক জীবনযাপন সম্ভব? হ্যাঁ হয়ত সম্ভব, তবে এর জন্য ইউনিলিভারের সকল পণ্য নিয়ে ভালভাবে মার্কেট স্টাডি করতে হবে। যেটা আসলেই কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। ইউনিলিভার এখন কনজিউমার গুডস মার্কেটের শীর্ষ ৫ এ নেসলে, পেপসি, জনসন এন্ড জনসন ও প্রক্টর এন্ড গ্যাম্বেল কোম্পানির সাথে অবস্থান করছে। 

ইউনিলিভার নিয়ে আপনাদের মনে যদি কোন প্রশ্ন জাগে অবশ্যই কমেন্টবক্সে জানাতে ভুলবেন না। 

সব ছবি এই লিঙ্ক থেকে নেওয়া হয়েছে। 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন