Basic Info BD https://www.basicinfobd.com/2021/12/blog-post_50.html

জিও - কোম্পানির ইতিহাস, উত্থান ও সাম্প্রতিক বিনিয়োগ

 



করোনা ভাইরাসের কারনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বেহাল অবস্থা সেখানে টেলিকম ও ই-কমার্স কনজামপশন বেজড প্রোডাক্ট সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর স্বত্ত্বাধিকারীরা বহুগুনে তাদের ব্যবসা বাড়িয়ে নিয়েছে।  রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেডের মালিক মুকেশ আম্বানি তাদের মধ্যে একজন। ফেইসবুক , ইন্সট্রাগ্রাম বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সব দেশি বিদেশি নিউজ চ্যানেলগুলোর টক অব দ্যা টাউন মুকেশ আম্বানি । হবেই বা না কেনো , এই করোনাকালীন  সময়ে তিনি এসে গেছেন বিশ্বের ৫ ধনীর লিস্টে। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৫ জুলাই রিলায়েন্সের বার্ষিক জেনারেল মিটিং পর্যন্ত সর্বমোট তেরটি কোম্পানী রিলায়েন্সের ডিজিটাল প্ল্যাটফরম জিও প্ল্যাটফরম লিমিটেডে ইনভেস্ট করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইতিহাস

রিলায়েন্সের ডিজিটাল বিজনেস সাবসিডারিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে জিও প্ল্যাটফরম লিমিটেড। ২০১৯ এর অক্টোবরে রিলায়েন্স তাদের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের অংশ হিসেবে জিও প্ল্যাটফরম প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন কারনে রিলায়েন্সের টেলিকম সাবসিডারি  রিলায়েন্স জিও আলোচনায় থাকলেও অন্যান্য ডিজিটাল বিজনেসগুলো আডালেই ছিল। অবশেষে গত বছর রিলায়েন্স তাদের টেলিকম বিজনেস এবং অন্যান্য বিজনেসগুলোকে একই প্ল্যাটফরমে অন্তর্ভুক্ত করে আলাদা আলাদা ডিজিটাল সাবসিডারি হিসেবে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

জিও প্ল্যাটফরমের অধীনে কোম্পানীগুলো 

আনিল আম্বানি সাথে ব্যবসায়িক এবং পারিবারিক কলহের সূত্রে প্রতিষ্ঠিত নন কমপিট এগ্রিমেন্ট কারনে মুকেশ আম্বানির এনার্জি এবং টেলিকম ও আরো কিছু ব্যবসায় প্রবেশ নিষেধ ছিল। আবার অনিল আম্বানির এনার্জি ও টেলিকম ব্যবসার অবস্থা ছিল নাজুক। সুযোগটা হারাতে চান নি মুকেশ আম্বানি। ২০১০ সালে ভারতের ব্রডব্যান্ড ওয়ারলেস অ্যাক্সেসের ৪জি লাইসেন্সের নিলামের কিছুদিন আগে ডুবতে থাকা এনার্জি বিজনেস বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মুকেশ আম্বানি। বিনিময়ে ২০০৫ সালের প্রতিষ্ঠা নন কমপিট এগ্রিমেন্টটি বাতিল করেন তিনি। যার ফলে টেলিকম ব্যবসায় প্রবেশের আর কোনো বাধা ছিলনা তার। ৪জি লাইসেন্সের নিলামে ইনফোটেল ব্রডব্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড নামে অখ্যাত ব্রডব্যান্ড কোম্পানী ২.৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে স্পেক্ট্রাম কিনে নেয়। নিলাম শেষ হওয়ার ঘন্টাখানেক পর কোম্পানীটির ৯৫% শেয়ার কিনে নেন মুকেশ আম্বানি। পরবর্তীতে এটার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রিলায়েন্স জিও ইনফোকম লিমিটেড। পরে ২০১৫ সালে স্বল্পকারে এবং ২০১৬ সালে পুরোদমে রিলায়েন্সের টেলিকম সাবসিডারি হিসেবে ব্যবসা শুরু করে জিও। জিও এর সুপার অ্যাপ হচ্ছে মাই জিও অ্যাপ। অর্থাৎ গ্রাহক অনেকগুলো সার্ভিস একসাথে একই অ্যাপে পেয়ে যায়। বেসিক টেলিকম সার্ভিস যেমন ভয়েস ও ডাটা প্ল্যান ঠিক করা , রিচার্জ করা ,বিল পেমেন্ট করা ,এসবের সাথে গান শোনা ,মুভি ,টিভি শো দেখার মতো এসব সুবিধাও পাওয়া যাবে এই সুপার অ্যাপে। ২০১৬ সালে প্লেস্টারে এসে মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই একশ মিলিয়ন ডাউনলোড অতিক্রম করে মাই জিও অ্যাপ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাই জিও অ্যাপে জিও মিনি অ্যাপস নামে একটি ফিচার আনা হয় যেখানে জিও প্ল্যাটফরমের আরো কিছু সার্ভিস যেমন জিও ক্লাউড ,জিও টিভি  ইত্যাদি যুক্ত করা হয়। জিও মার্টের মাধ্যমে এবছর ইকমার্স বিজনেসে প্রবেশ করল রিলায়েন্স । ক্ষুদ্র ও মাঝারি ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা এ শপিং পোর্টালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে হোয়াটসআপ বিজনেস অ্যাপে সংযুক্ত থেকে অর্ডার করবে ও পণ্য বিক্রয় করবে। আর ক্রেতারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পণ্য অর্ডার দিতে পারবে।  আবার আমাজন ও জিও মার্টে বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে। এসব ছাড়াও জিও এর মার্জার এবং অধিগ্রহন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অনলাইন মিউজিক স্ট্রিমিং সার্ভিস প্ল্যাটফরম জিও স্যাভন, ডিজিটাল এডুকেশন প্ল্যাটফরম জিও এম্বাইব এবং ৫ জি সার্ভিসের জন্য সফটওয়্যার সলুশন কোম্পানি জিও রেডিসিস । 

জিও তে বিনিয়োগের টাইমলাইন

১। ২০২০ সালে ফেসবুক ৫.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় যা প্লাটফরমটির ১০% শেয়ারের সমান। 

২। ২ রা মে ২০২০ সালে সিলভারলেক কোম্পানি ৭৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে ১.২% শেয়ার কিনে নেয়। 

৩। ৮ই মে ভিস্তা ইকুইটি পার্টনারস জিও প্লাটফর্মের ২.৩% শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয় যার বাজারমূল্য দেড় বিলিয়ন ডলার।

৪।  ১৭ ই মে জেনারেল আটলান্টিক ১.৩% শেয়ার কিনে নেওয়ার মাধ্যমে ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।

৫। ২২ই মে ২০২০ সালে কেকেআর এন্ড কোং দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় ২.৩% শেয়ার কেনার মাধ্যমে।

৬। ৬ ই জুন মুবাদালা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি জিও প্লাটফর্মের ১.৯% শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয় যার বাজারমূল্য ১.২ বিলিয়ন ডলার।

৭। একই দিনে সিলভারলেরক আরো ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্লাটফরমটির ০.৯% শেয়ার কিনে নেয়।

৮। ৭ই জুন আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথোরিটি ৭৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে ১.২% শেয়ার কিনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

৯। ১৩ ই জুন টিপিজি ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্লাটফরমটির ০.৯% শেয়ার কিনে নেয়।

এরপর ১৩ই জুন এলক্যাটারটন, ১৮ই জুন সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, ৩ ই জুলাই বিখ্যাত কোম্পানি ইন্টেলের সাবসিডারি ইন্টেল ক্যাপিটাল, ১২ই জুলাই কোয়ালকম ভেঞ্চারস এবং ১৫ই জুলাই গুগল বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে গুগল জিও প্লাটফর্মের ৭.৭% শেয়ার কিনে নেয় ৪.৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে যা উল্লিখিত ১৪ শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ।

উপসংহার 

জিও এখন কেবল মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর নয়। প্রায় সবধরনের ডিজিটাল বিজনেসে প্রবেশ করার ফলে একে একটি পরিপূর্ণ টেক কোম্পানি বলা যায়। আর এ কারণেই জিও প্লাটফর্ম বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ মূল্য পেয়েছে। আশা করি জিও উত্থান এবং এর সাম্প্রতিক বিনিয়োগ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারনা পেয়েছেন। আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্টবক্সে জানাবেন। 


অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন