Basic Info BD https://www.basicinfobd.com/2022/03/e-passport.html

ই-পাসপোর্ট কি? কি ভাবে আবেদন করব? এর প্রয়োজনীয়তা

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রায় সকল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থাৎ ডিজিটাল হচ্ছে। ঠিক তাই পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (MRP) এর পাশাপাশি ই-পাসপোর্টও চালু হচ্ছে। যার ফলে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে আপনি আরো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। তাই আজকের এই পোস্টে আমরা ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।





পেজ সুচিপত্রঃ-

ই-পাসপোর্ট কিঃ  

ই-পাসপোর্ট হল ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট। এর প্রথম পেজটি পলি-কার্বনেট পেপার এর হয়ে থাকে। এটি খুবই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি পেপার। যাতে একটি মাইক্রো প্রসেসর চিপ যুক্ত থাকে। এই মাইক্রো প্রসেসর চিপে আপনার সমস্ত ইনফরমেশন থাকবে, এমনকি ফিঙ্গার প্রিন্ট, চোখের স্ক্যান কপিও  বাদ থাকবে না। 

এখন পর্যন্ত ১২০টি দেশে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। আপনার ই-পাসপোর্ট থাকলে ইন্টারন্যাশনাল বর্ডার ক্রস করার সময় ই-গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। যার ফলে আপনার ইমিগ্রেশন এর কাজ খুব দ্রুত এবং খুব সহজেই সম্পন্ন হবে।তো চলুন কি ভাবে পাসপোর্টের আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হয় তা জেনে নিই।

যে ভাবে আবেদন করবঃ

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আপনি চাইলে দালাল ছাড়ায় নিজের পাসপোর্ট নিজেই তৈরি করতে পারবেন। বাসায় বসে থেকে অনলাইনে ফর্ম পূরণের মাধ্যমে পাসপোর্ট এর আবেদন ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। তো চলুন কি ভাবে আবেদন করব তা ধাপে ধাপে  জেনে নিই-

ই-পাসপোর্ট এর আবেদন করার জন্য আপনাকে প্রথমে এই লিংকে যেতে হবে। সাইট টি ওপেন হলে ওপরে ডান কোনে আপনি দেখতে পাবেন বাংলা এবং ইংরেজি ভাষা দেয়া আছে। আপনার যে ভাষা পছন্দ সেই ভাষা সিলেক্ট করে নিতে পারবেন। এখন Apply Online for e-Passport এ ক্লিক করতে হবে।


প্রথম ধাপঃ

ই-পাসপোর্ট এর প্রথম ধাপে আপনি যে এলাকায় বসবাস করেন তা ই-পাসপোর্ট এর রিজিয়নের মধ্যে পড়ে কি না তা যাচাই করে নিতে হবে। অর্থাৎ ই-পাসপোর্ট এর ফর্মের নির্ধারিত স্থানে জেলা এবং থানা সিলেক্ট করে  ই-পাসপোর্ট এর রিজিয়ন দেখে নিতে হবে। এরপর কন্টিনিউ এ ক্লিক করতে হবে।


দ্বিতীয় ধাপঃ 

ই-পাসপোর্ট এর দ্বিতীয় ধাপে ই-মেইল এড্রেস দিতে হবে। ই-মেইল এড্রেসটি পার্সোনাল হতে হবে এবং অবশ্যই পাসওয়ার্ড জানতে হবে। এরপর কন্টিনিউ এ ক্লিক করতে হবে। 

তৃতীয় ধাপঃ

ই-পাসপোর্ট এর তৃতীয় ধাপে ই-মেইল এড্রেস দেয়ার পরে পাসওয়ার্ড বসাতে হবে। পাসওয়ার্ড এর ক্ষেত্রে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, সেটি হল বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর স্পেশাল ক্যারেকটার এবং নাম্বার মিলিয়ে পাসওয়ার্ড দিতে হবে। তাহলেই আপনার পাসওয়ার্ডটি তাদের সার্ভারে নিয়ে নিবে। 

এরপর পার্সোনাল ইনফরমেশন এ Full Name এর জায়গায় NID কার্ড বা বার্থ সার্টিফিকেট অনুযায়ী পুরোনাম লিখতে হবে। Given name এর জায়গায় নামের প্রথম অংশ এবং Surname এর জায়গায় নামের দ্বিতীয় অংশ লিখতে হবে। Contact Information এর জায়গায় আপনার যে ফোন নাম্বার টি একটিভ আছে সেটি দিতে হবে। এরপর ক্রিয়েট একাউন্টে এ ক্লিক করতে হবে। 



চতুর্থ ধাপঃ

চতুর্থ ধাপে এক্টিভেট ই-পাসপোর্ট একাউন্ট নামে একটি উইন্ডো আসবে। এখানে আপনার একাউন্ট এক্টিভেট করার জন্য একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। আপনার কাছে ই-মেইল টি এক-দুই মিনিটের মধ্যেই চলে আসবে, যদি ই-মেইল আসতে দেরি হয় তাহলে একটু সময় নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। এখন ই-মেইলে গিয়ে একাউন্ট টি এক্টিভ করতে হবে। 

এরপর সাইন ইন এ ক্লিক করে  ই-মেইল এবং যে পাসওয়ার্ড টি দিয়েছেন সেটি বসিয়ে দিতে হবে। এরপর সাইন ইন এ ক্লিক করতে হবে। এখন যে উইন্ডো টি আসবে এর ডান দিকে Apply for a new e-passport লিখা দেখতে পাবেন। 

পার্সোনাল ইনফর্মেশনঃ  

এখান Apply for a new e-passport এ ক্লিক করলে পার্সোনাল ইনফর্মেশন এর ফর্ম টি চলে আসবে। আপনি ইতিমধ্যে নিজের নাম দিয়েছেন। এরপর জেন্ডার, প্রফেশন, রিলিজিয়ন, বার্থ ডেটা, সিটিজেনশিপ, NID নম্বর ইত্যাদি রয়েছে। এগুলো খুব ভালোভাবে খেয়াল করে পূরণ করে  Save and continue এ ক্লিক করতে হবে। এর পরে যে পেজ আসবে তাতে, পূর্বে আপনার কোন পাসপোর্ট আছে কিনা  এ বিষয়ে তিনটি অপশন থাকবে, আপনাকে একটি অপশন সিলেক্ট করে Save and continue এ ক্লিক করতে হবে।  


পারমানেন্ট এবং প্রেজেন্ট এড্রেসঃ 

এরপর ই-পাসপোর্ট এর যে পেজটি আসবে এতে পারমানেন্ট এবং প্রেজেন্ট এড্রেস ফিলাপ করতে হবে। এক্ষেত্রে পারমানেন্ট এড্রেসে আপনার NID অথবা বার্থ সার্টিফিকেট অনুযায়ী লিখতে হবে। পারমানেন্ট এবং প্রেজেন্ট এড্রেস এর ওপর নির্ভর করে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। 

এই পেজের নিচের দিকে একটি বিষয় খেয়াল করবেন, রিজিয়নাল পাসপোর্ট অফিস এবং বাংলাদেশ মিশন, অপশন দেয়া আছে। আপনি রিজিয়নাল পাসপোর্ট অফিস অপশনটি সিলেক্ট করে দিবেন,বাংলাদেশ মিশন  সিলেক্ট করলে সরাসরি হেড অফিস এ আবেদনটি চলে যাবে। এরপর Save and continue এ ক্লিক করতে হবে। 

পেরেন্টাল ইনফরমেশনঃ 

এখন ই-পাসপোর্টের যে পেজটি আসবে এতে পেরেন্টাল ইনফরমেশন চাইবে অর্থাৎ পিতা-মাতার নাম, পেশা, ন্যাশনালিটি  ইত্যাদি লিখতে হবে। এক্ষেত্রে পেরেন্টাল ইনফরমেশন NID অথবা বার্থ সার্টিফিকেট অনুযায়ী লিখতে হবে। নিচের দিকে গারডিয়ান ইনফরমেশন আছে, আপনি চাইলে দিতেও পারেন আবার নাও পারেন এটা আপনার ইচ্ছা। এরপর Save and continue এ ক্লিক করতে হবে। 

স্পাউস ইনফরমেশনঃ 

ই-পাসপোর্টে এখন যে পেজটি পাবেন তা হল স্পাউস ইনফরমেশন অর্থাৎ আপনি সিঙ্গেল, ম্যারিড না ডিভোর্স তা দিতে হবে। ম্যারিড হলে আরো কিছু ইনফরমেশন যুক্ত করতে হবে। এরপর Save and continue এ ক্লিক করতে হবে। 

ইমার্জেন্সি কন্টাক্টঃ 

Save and continue এ ক্লিক করলে E-Passport এর ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট পেজটি চলে আসবে। আপনি যখন বিদেশে ভ্রমণ করবেন তখন আপনার যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে জরুরী ভিত্তিতে আপনার স্বজনদের সাথে যে কন্টাক্ট নাম্বারে যোগাযোগ করবে সেই নাম্বার টি দিতে হবে। আপনি চাইলে বাবা, ভাই, স্ত্রীর নাম্বার দিতে পারেন। যার নাম্বার দিবেন তার নাম, ঠিকানা সব কিছু সুন্দর ভাবে ফিলাপ করে Save and continue এ ক্লিক করতে হবে। 

পাসপোর্ট অপশনঃ 

Save and continue এ ক্লিক করার পর আসবে পাসপোর্ট অপশন। এখানে পাসপোর্ট টি ৪৮ ও ৬৪ পেজের এবং ৫ ও ১০ বছর মেয়াদের পাবেন। প্রতিটির প্রাইজ আলাদা আলাদা। সর্বোনিম্ন ৪০২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০৫০ টাকা। আপনার পছন্দের প্যাকেজটি সিলেক্ট করে Save and continue এ ক্লিক করতে হবে। 

ডেলিভারি অপশনঃ

ই-পাসপোর্ট এর ডেলিভারি অপশন এ থাকছে রেগুলার ডেলিভারি এবং এক্সপ্রেস ডেলিভারি। রেগুলার ডেলিভারি তে ২১ দিন এবং এক্সপ্রেস ডেলিভারি তে ১০ দিন সময় নিবে। তবে এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে চার্জ বেশি লাগবে। এরপর Save and continue এ ক্লিক করতে হবে। এখন যে উইন্ডো টি আসবে এতে সকল তথ্য থাকবে,যে গুলি আপনি ফিলাপ করলেন। আপনার নামের বানান সহ সব কিছু ঠিক আছে কিনা তা চেক করে নিবেন। এরপর Confirm and proceed to payment এ ক্লিক করতে হবে। 

পেমেন্ট অপশনঃ

এখানে আপনি দুই ভাবে পেমেন্ট করতে পারবেন একটি অনলাইন এবং অপরটি অফলাইন। অফলাইন বলতে সোনালি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ইত্যাদি ব্যাংক এ গিয়ে সরাসরি টাকা জমা দিতে পারবেন। এরপর Continue এ ক্লিক করলে সিডিউল এপোয়েটমেন্ট আসবে। এখানে আপনি আপনার সময় মত ডেট এবং টাইম দিয়ে দিবেন, অর্থাৎ যে সময় আপনি ই-পাসপোর্ট এর ফর্মটি জমা দিতে পারবেন সে সময় দিতে হবে। 

এখন Confirm এ ক্লিক করুন তারপর যে পেজটি আসবে এতে Download Application Form for Printing অপশন টি পাবেন। এতে ক্লিক করলে ফর্মটি ডাউনলোড হয়ে যাবে। ডাউনলোড কৃত ফর্মটি প্রিন্ট করার মাধ্যমে E-Passport এর অনলাইনে আবেদন করার কাজ শেষ হবে। এখন প্রিন্ট কপি ও টাকা জমা দেয়ার রশিদ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে জমা দিতে হবে।

প্রয়োজনীয়তাঃ 

ই-পাসপোর্ট এর উপকারিতা সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত ভাবে এটুকুই বলব তা হল। যারা MRP পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করেছেন শুধু তারাই জানেন ইমিগ্রেশনের সময় কতটা ঝামেলা এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তাই E-Passport এর ক্ষেত্রে এ রকম কোন সমস্যা ছাড়াই খুবই অল্প সময়ে ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন হয়।  

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন