Basic Info BD https://www.basicinfobd.com/2022/03/srity-shokti.html

স্মৃতিশক্তি কেন কমে যায়? মনে রাখার ৯টি সহজ উপায়

বাসা থেকে বের হওয়ার পর মনে হচ্ছে যে দরজাতে তালা দিয়েছেন কি না অথবা গ্যাসের চুলা বন্ধ করেছেন কি না? অনেক মনে করার চেষ্টা করেও মনে পড়ছে না? অথবা রাস্তায় পূর্বপরিচিত কারো সাথে দেখা হল অথচ নাম মনে করতে পারছেন না? এরকম যদি আপনার বারবার হতে থাকে তবে বুঝবেন যে আপনার ভুলে যাওয়ার প্রবনণতা আছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এরকম আপনার আশেপাশের অনেক মানুষেরই রয়েছে। আর আপনি এর থেকে সমাধানের উপায় খুঁজতে চাইলে সঠিক জায়গাটিতে এসেছেন। 

তো চলুন স্মৃতিশক্তি মনে রাখার ৯টি সহজ উপায় সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জেনে নেই, জেনো আমরা এই ধরনের সমস্যা গুলো থেকে খুব তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসতে পারি।

পেজ সুচিপত্রঃ-

স্মৃতিশক্তি কেন কমে যায়?

মার্কিন হেলথ জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অনেক সময় বংশগত হতে পারে। তবে স্মৃতিশক্তির উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে আপনি কি খাচ্ছেন এবং আপনার জীবনযাত্রা কেমন। মানসিক চাপ, বিষন্নতা বা উদ্বেগ জনিত রোগ থাকলে অথবা দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমের সমস্যা হলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এর কারণ হিসেবে বলা যায়ঃ  ভিটামিন বি-১২ এর অভাব, পানিশূন্যতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা, বয়স বৃদ্ধি ইত্যাদি। সময় মত ব্যবস্থা না নিলে অ্যালঝেইমারের মত বড় রোগ হতে পারে। তবে আশার কথা হল যেকোন বয়সেই স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা যায়।  নিচে ৯ টি টিপস দেওয়া হল।

১। খাদ্যাভ্যাস


মস্তিষ্কে যেন জং না ধরে সেজন্য কি খাবার খাচ্ছেন সেটা অনেক জরুরী। অনেকের খাদ্যাভ্যাসের জন্য স্মৃতিশক্তি জণিত সমস্যা হয়ে থাকে। আপনাকে এমন খাবার খুঁজুন যাতে পর্যাপ্ত এন্টি অক্সিড্যান্ট আছে। যেমন- ফলমূল, শাকসবজি। এর সাথে সাথে ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার খেতে পারেন যা আপনি পেতে পারেন সামুদ্রিক মাছ এবং বাদাম থেকে। সাথে খেতে পারেন গ্রিন টি। আর সবচেয়ে জরুরি হল অতিরিক্ত চিনি, শর্করা এবং কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা। স্মৃতিশক্তি জনিত সমস্যা হলে এই উপদেশ গুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

২। পর্যাপ্ত ঘুম


আমাদের মস্তিষ্কের মাঝামাঝি ইউ-আকৃতির একটা জিনিস আছে যাকে বলে হিপোক্যাম্পাস। এই হিপোক্যাম্পাসকে আমরা আমাদের মেমোরি কার্ড বা হার্ডডিস্ক বলতে পারি। মানুষ যখন ঘুমায় তখন এই অংশে নতুন নিউরন কোষ জন্মায় যার ফলে স্মৃতি প্রখর থাকে। তাই স্মৃতি ঠিক রাখতে দৈনিক ৭-৯ ঘন্টার ঘুম প্রয়োজন। সন্ধ্যার পর চা-কফি পানে বিরত থাকুন। ঘুমানোর ১ ঘন্টা আগে থেকে যেকোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ( মোবাইল, টিভি, কম্পিউটার ইত্যাদি) ব্যবহার বন্ধ রাখুন।

৩। ব্যায়াম


আপনি যদি আজ থেকেই হার্টের ব্যায়াম বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম শুরু করেন তবে আপনার অ্যালঝেইমার বা ডিমেন্সিয়া ইত্যাদি বড় রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% কমে যাবে। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ে, অক্সিজেন এবং গ্লুকোজের সরবরাহও বাড়ে। ফলে স্মৃতি চাঙ্গা থাকে। ডাচ বিজ্ঞানীদের এক গবেষনায় দেখা গেছে, আপনি কোন কিছু পড়ার ৪ ঘন্টা পর (সাথে সাথে না কিন্তু!) যদি ব্যায়াম করেন তবে সেই পড়া ভাল মনে থাকে। আপনি যদি হাঁটতে হাঁটতে পড়েন সেক্ষেত্রেও পড়া ভাল মনে থাকে। 

৪। ধূমপান ও মদপান ছাড়ুন


ধূমপানের ফলে আমাদের যেসব ধমনীর মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ হয় তা বাধাগ্রস্ত হয়। আর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ানো জরুরি। তাই ধূমপান পরিহার করুন। মদ্যপানের ফলে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এজন্য মদপান থেকে বিরত থাকুন।

৫। সামাজিক হোন


যারা পরিবার ও বন্ধুবান্ধব থেকে দূরে থাকেন তাদের স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে। তাই পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে মুখোমুখি যোগাযোগ (ফোনে নয় কিন্তু!) বাড়ান, তাদের সাথে আড্ডা দিন, ঘুরুন, হাসি তামাশা করুন। খুব ভাল হয় শিশুদের সাথে সময় কাটালে। আর যারা আপনাকে মানসিক চাপে ফেলে দেয় তাদের সাথে দুরত্ব বজায় রাখুন।

৬। মানসিক চাপ কমান


বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আপনি চাইলেই আপনার মানসিক চাপ কমাতে পারেন। হ্যাঁ, আপনি একদিনে আপনার দুশ্চিন্তা বা হতাশা থেকে বের হতে পারবেন না, তবে কিছু কাজ করতে পারেন যার ফলে স্ট্রেস হরমোন কম নিঃসরণ হবে। প্রথমত, অতিরিক্ত চাপ নিবেন না – ব্যক্তিগত এবং পেশাগত উভয় ক্ষেত্রেই। যেটুকু কাজ করা দরকার সেটুকুই করুন। প্রয়োজনের অতিরিক্তকে না বলতে যেমন। কাজ এবং অবসর দুই এর মধ্যে ব্যালান্স রাখা জরুরি। বই পড়া, শব্দচর্চা, সুডোকু, দাবা, পাজল, রুবিকস কিউব ইত্যাদি খেললে মস্তিষ্ক শার্প হয়। আবেগ প্রকাশ করুন, সব আবেগের ই দরকার আছে। হাসি-কান্না, রাগ-অভিমান কিছুই চেপে রাখবেন না। নিজেকে নতুন কিছুতে ব্যস্ত রাখতে শিখুন। যেমন- নতুন ভাষা, বাগান করা, নতুন রান্না শেখা, ছবি আঁকা, সাঁতার কাটা ইত্যাদি। এমন কিছু করুন যা আপনাকে আরো উন্নত করবে। এর ফলে আপনার মানসিক চাপ কমবে এবং স্মৃতিশক্তি ভাল থাকবে।

৭। ধ্যান


জার্মানির এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ধ্যান করলে স্মৃতিশক্তি বেশ ভাল থাকে। ধ্যানের ফলে শরীর ও মন উভয় ই ফুরফুরে থাকে। 

৮। ইন্দ্রিয় দিয়ে মনে রাখুন

কোন কিছু মনে রাখতে এর ছবি, রঙ, গন্ধ, স্পর্শ এবং স্বাদের সাথে তথ্য মিলিয়ে মনে রাখুন। যা মনে রাখতে চান তাকে ছবি দিয়ে কল্পনা করে নিন। লিখুন, লিখলে ভাল মনে থাকে। জোরে জোরে পড়ুন, এর ফলে স্মৃতিতে ধরে রাখতে সুবিধা হয়। ছন্দ দিয়ে মনে রাখার অভ্যাস করুন, এর ফলে দীর্ঘদিন মনে রাখা যায়। 

৯। সুর ও সঙ্গীত


গবেষণায় দেখা গেছে, গান শুনলে মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়। এজন্য অবসরে গান শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

আপনার এরপরেও যদি সমস্যা থাকে তবে অবশ্যই একজন ভাল ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। 

পোস্টটি আপনাদের কেমন লাগল? কমেন্টবক্সে জানাতে ভুলবেন না। 

সব ছবি এই লিঙ্ক থেকে নেয়া হয়েছে। 


 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন